১৯৪৭ সালের ২০শে জুন, বঙ্গীয় আইনসভার ৫৮-২১ ভোটে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়েছিল। সমকালীন সংবাদপত্রের পাতায় ধরা আছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষ্য।
ব্রিটিশ সরকারের সাম্প্রদায়িক আইনে বাংলার আইনসভায় মোট ২৫০ আসনের মধ্যে মুসলমান আসন ১১৯। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান, ইউরোপীয়, তফসিলি, ভূস্বামী, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় সব ধর্মীয় আর পেশাভিত্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আইনসভায় আসন সংরক্ষণ করা হলেও - হিন্দুদের জন্য কোন আসন সংরক্ষিত নয়। যার তীব্র বিরোধিতা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
কোন কারণ না দেখিয়ে ফজলুল হকের জোট সরকার গড়ার প্রস্তাব মুখের উপর ফিরিয়ে দিয়ে সব থেকে বেশি আসন জেতার পরেও মুসলম্যান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলায় সরকার গড়তে কার্যত অস্বীকার কংগ্রেসের। এক প্রকার বাধ্য হয়ে প্রথমে মুসলিম লীগের সাথে জোট সরকার গঠন আর কিছুদিনের মধ্যেই ফজলুল হকের সরাসরি মুসলিম লীগে যোগদান। কংগ্রেসের খামখেয়ালিপনায় আর বদান্যতায় গোটা ভারতের মধ্যে একমাত্র বাংলায় ক্ষমতার অলিন্দে মুসলিম লীগ। কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগের শাসনে প্রথম থেকেই নানা হিন্দু বিরোধী কার্যকলাপ। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সংশোধনী আইন - বেঙ্গল সেকেন্ডারী এডুকেশন বিলের মতন একের পর এক হিন্দু বিরোধী আইন।
ভারতের যে প্রদেশগুলি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং একটি অন্যটির লাগোয়া লাহোর অধিবেশন থেকে সেগুলি নিয়ে ভারত ভেঙে আলাদা ইসলামিক রাষ্ট্রের দাবি মুসলিম লীগের। গোটা বাংলা যে দাবির অন্তর্ভুক্ত। ফলে গোটা দেশের মতন অবিভক্ত বাংলাতেও মুসলিম লীগের প্রতি পুরো মুসলমান সমাজের এককাট্টা সমর্থন।
পাকিস্তান দাবিকে সামনে রেখে গোটা দেশের মতন বাংলাতেও মুসলিম লীগের অসাধারণ নির্বাচনী সাফল্য। ১১৯টা মুসলমান আসনের মধ্যে ১১৬টিতে জয়লাভ। নির্বাচনী ইস্তেহারের ঘোষণা অনুযায়ী ভারত ভেঙে আলাদা আলাদা ইসলামিক রাষ্ট্র, পাকিস্তান এবং শহর কলকাতা সমেত গোটা বাংলাকে সেই পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির দাবি আরো শক্তিশালী।
১৬ই অগাস্ট পাকিস্তানের দাবিতে বাংলার শাসক দল মুসলিম লীগের 'ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে'-র ডাক। সরকারী ব্যবস্থাপনায় শহর কলকাতায় নির্বিচারে হিন্দু হত্যা, হিন্দু নারী ধর্ষণ, হিন্দু সম্পত্তি ধ্বংস এবং লুঠ। দুই দিন বাদে কলকাতায় হিন্দু প্রতিরোধ সম্ভব হলেও ১০ই অক্টোবর, কোজাগরী পূর্নিমার দিন থেকে নোয়াখালীতে আরো ভয়ঙ্কর আর ব্যাপক হারে লাগাতার প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি নির্বিচারে-নির্বিরোধে হিন্দুদের উপর পাশবিক অত্যাচার। সাথে বিভিন্ন জেলাতেও একই কায়দায় হিন্দুদের উপর লাগাতার সাম্প্রদায়িক আক্রমন। সংখ্যালঘু হয়ে মুসলিম লীগের শাসনে নারীর সম্মান, ধর্ম-সংস্কৃতি, সম্পদ এবং প্রাণের সুরক্ষা অসম্ভব বলে বৃহত্তর হিন্দু সমাজের উপলব্ধি।
৪ঠা এপ্রিল সকালে বাংলার প্রদেশ কংগ্রেসের কর্মসমিতির সভায় হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদকে বিশেষ আমন্ত্রণ। ৪ঠা থেকে ৬ই এপ্রিল তারকেশ্বরে হিন্দু মহাসভার আহ্বানে বিশাল হিন্দু সম্মেলন। গোটা বাংলা থেকে ৪০০ প্রতিনিধি আর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম। বাংলার হিন্দুদের পৃথক স্বভূমির দাবি। সেই দাবিকে বাংলার প্রদেশ কংগ্রেসের পূর্ন সমর্থন। সর্বসম্মতিতে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে সেই আন্দোলনের প্রধান নেতার স্বীকৃতি। সেই দাবিতে সাধারণ মানুষের সাথেই প্রথিতযশা স্বনামধন্য হিন্দুদের পথে নেমে লাগাতার আন্দোলন। নেতৃত্বে শ্যামাপ্রসাদ। ২০শে জুন অবিভক্ত বাংলার অ্যাসেম্বলীতে মুসলিম লীগ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অধিবেশনের শুরুতেই ১২০-৯০ ভোটে শহর কলকাতা সমেত গোটা বাংলার পাকিস্তান ভুক্তির প্রস্তাব পাশ। তারপরের কয়েক ঘন্টা ভয়ঙ্কর উদ্বেগের হলেও শ্যামাপ্রসাদের অতুলনীয় বিচক্ষণতায় আর যোগ্য নেতৃত্বে বেলা গড়ানোর আগেই অবিভক্ত বাংলার হিন্দু অধ্যুষিত পশ্চিম অংশের সদস্যদের জন্যে পৃথক প্রস্তাবের উপর আলাদা করে ভোট। ২১ জন মুসলমান সদস্যের প্রত্যেকের এককাট্টা বিরোধিতা সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সহ অমুসলমান ৫৮ জন সদস্যের জোটবদ্ধ সমর্থনে সৃষ্টি হয়ে স্বাধীন ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল - এই পৃথিবীতে বাঙ্গালী হিন্দুর একমাত্র হোমল্যান্ড - পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের।
পশ্চিমবঙ্গ গঠনের অগ্রণী সেনানীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি — যাঁদের দৃঢ়তা ও দূরদর্শিতায় গড়ে উঠেছিল আজকের পশ্চিমবঙ্গ।















যে জাতি বারো মাসে তেরো পার্বণের আদিখ্যেতায় রসগোল্লা দিবসও পালন...
বিস্তারিত পড়ুনআজ পশ্চিমবঙ্গ দিবস। আমরা অনেকেই জানি না যে দেশের বিভিন্ন...
বিস্তারিত পড়ুন২০ শে জুন “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” হিসেবে উদযাপিত হয়, যা প্রত্যেক...
বিস্তারিত পড়ুনযদি পশ্চিমবঙ্গ না থাকত… যদি পুরোটাই পূর্ব পাকিস্তানে চলে যেত…...
বিস্তারিত পড়ুন২০ শে জুন, পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস। বাঙালি হিন্দুর বিজয় দিবস।...
বিস্তারিত পড়ুনসাম্প্রদায়িক হিংসা, ধর্মের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের (অধুনা...
বিস্তারিত পড়ুন২০ শে জুন – পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এই তথ্যটি হয়তো পাঠককে...
বিস্তারিত পড়ুনপশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন যে ৫৮ জন:- গোবিন্দলাল ব্যানার্জি,...
বিস্তারিত পড়ুনদেশভাগের পর সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত জাতি বোধ হয় সিন্ধিরা। বাংলা বা...
বিস্তারিত পড়ুনভারতের প্রায় সমস্ত রাজ্য যথাযোগ্য মর্যাদায় তার স্থাপনা দিবস পালন...
বিস্তারিত পড়ুন
শ্রী শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ
২০শে জুনকে সরকারিভাবে "পশ্চিমবঙ্গ দিবস" রূপে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়কে আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের কাছে তাঁদের শিকড়, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্ব তুলে ধরবে, আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে এই দিনের তাৎপর্য।