দেশভাগ ও অমৃতবাজার পত্রিকা

সৌগত বসু

গত দেড়শো কি দুশো বছরে ভারতীয় উপমহাদেশে সব থেকে বড় যে রাজনৈতিক ঘটনা। উপর্যুপরি বেশ কয়েকটা প্রজন্মের লক্ষ কোটি মানুষের জীবনের উপর যার প্রভাব সব থেকে বেশি। নিঃসন্দেহে বলা যায় সেটা ১৯৪৭-এ ভারত ভূখণ্ডে দীর্ঘ বিদেশি শাসনের অবসানের ফলে দেশজ ভারতীয়দের সম্পূর্ণ রাষ্ট্রক্ষমতা প্রাপ্তি। আবার সঙ্গে তারই পরিণামে—দেশের ভাগাভাগি।

অগাস্টের কলকাতা বাংলার হিন্দুদের বিশ্বাসে যে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছিল অক্টোবরের নোয়াখালী শুধু যে সেই ফাটল আরো চওড়া করে দিয়েছিল তাই নয়—টলিয়ে দিয়েছিল বিশ্বাসের ভিতটাই। সঙ্গে অনুঘটকের কাজ করেছিল কলকাতার উপকণ্ঠে হাওড়া থেকে ঢাকা বাংলার প্রায় প্রতিটা জেলায়—বিশেষ করে পূর্ব বঙ্গের জেলাগুলোতে সাম্প্রদায়িক হানাহানি আর সেখানে প্রশাসনের একপেশে ভূমিকা। সেটা বুঝতে পেরে নোয়াখালী থেকে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শ্যামাপ্রসাদ সরাসরি সে কথা বলেওছিলেন। যেমন বলেছিলেন আচার্য্য কৃপালিনীও। মুসলিম লীগের শাসনে বাংলার হিন্দুদের পরিস্থিতি কত খানি ভয়াবহ হতে পারে তা বোঝার আর কিছু বাকি ছিল না। আর পৃথক পাকিস্তান সৃষ্টি হলে যে তার মাত্রা কোথায় যেতে পারে তা শুধু রাজনৈতিক নেতারা নন অনুমান করতে পেরেছিলেন বাংলার সাধারণ হিন্দুরাও। তাই পাকিস্তান হোক বা না হোক বাংলার হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু হলো এক নতুন আন্দোলন—বেঙ্গলী হিন্দু হোমল্যান্ড মুভমেন্ট। বাংলার পশ্চিম দিকের হিন্দু অধ্যুষিত জেলাগুলো নিয়ে চাই হিন্দুদের জন্যে আলাদা প্রদেশ।

১৯৪৭-এর ৪ঠা এপ্রিল এক দিকে তারকেশ্বরে নির্মল চন্দ্র চ্যাটার্জীর সভাপতিত্বে শুরু হলো বাংলার প্রদেশ হিন্দু মহাসভার তিন দিন ব্যাপী বিশেষ অধিবেশন। আর একই দিনে কলকাতায় বসল বাংলার প্রদেশ কংগ্রেসের এক্সিকিউটিভ কমিটির বিশেষ সভা। ৬ই এপ্রিলের অমৃতবাজার পত্রিকা-য় প্রকাশিত হলো দুটো সভারই বিস্তারিত বিবরণ।

নোয়াখালীতে হাজারে হাজারে মুসলমান হানাদারদের বিরুদ্ধে টানা দুই দিন অসম লড়াই লড়ে শেষ পর্যন্ত্য মৃত্যুবরণ করেছিলেন যে রাজেন্দ্রলাল রায় তার স্মরণে তারকেশ্বরে হিন্দু মহাসভার অধিবেশনস্থলের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘রাজেন্দ্রলাল রায় নগর’। সেই সভার খবর জানিয়ে অমৃতবাজার পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছিল—PARTITION OF BENGAL ONLY WAY TO SAVE HINDUS—SERFDOM IN PAKISTAN UNTHINKABLE—অধিবেশনের প্রথম দিন সভাপতির ভাষণে নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন—“মুসলিম লীগ যদি তাদের ধর্মীয় উন্মত্ততায় ভর করে বাংলায় পাকিস্তান সৃষ্টি করার জন্যে অগ্রসর হতে পারে তবে আজ নির্দ্বিধায় আমরা ঘোষণা করছি বাংলার হিন্দুরাও একটা শক্তিশালী জাতীয় সরকারের অধীনে তাদের জন্যে আলাদা প্রদেশ সৃষ্টি করবে”। তিনি আরো বলেন—“এটা শুধু দেশের ভাগাভাগির করা মতন বিষয় মোটেই নয়। আদতে এটা আমাদের মতন বাংলার হিন্দুদের জন্যে জীবন-মরনের মতন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিজেদের পছন্দের সরকার গঠিত না হলে বাংলার হিন্দুদের আগাগোড়া সাম্প্রদায়িক এবং হিন্দুবিরোধী একটা প্রশাসনের দাসত্বই চিরকাল করে যেতে হবে। সেই হতাশা আর পরাজয় থেকে মুক্তি যেমন কোনদিন মিলবে না তেমনই অত্যাচারিত হিন্দু ভাই বোনেদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোনদিনও লড়াই করা সম্ভব হবে না।”

বাংলার প্রদেশ কংগ্রেসের এক্সিকিউটিভ কমিটির সভার খবর জানিয়ে অমৃতবাজার পত্রিকাতে ৬ তারিখ যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল তার শিরোনাম ছিল—BENGAL CONGRESS FAVOURS PARTITION OF PROVINCE—INTERIM REGIONAL MINISTRY URGED—H.M.G. Asked To Transfer Power To Central Government। উল্লেখযোগ্যভাবে প্রদেশ কংগ্রেসের এক্সিকিউটিভ কমিটির সভায় সেদিন বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় সভাপতি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। কারণ তিনিই ছিলেন বাংলার হিন্দুদের পৃথক হোমল্যান্ড-এর দাবিতে যে মরন-বাঁচন আন্দোলন—সেই আন্দোলনের সর্বজনমান্য নেতা তথা প্রধান মুখ।

১৯৪৭-এর জুন মাসে ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত তাকে স্বাগত জানিয়ে সেই সভাতেও এই মর্মে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল যে ব্রিটিশ সরকার যেন কেন্দ্রীয় সরকারের হাতেই দেশের শাসন ক্ষমতা তুলে দেন। এবং যেন কোনভাবেই কোন প্রদেশের সরকারের হাতে, বিশেষ করে বাংলার সরকারের মতন কোন সাম্প্রদায়িক সরকারের হাতে প্রদেশের শাসন ক্ষমতা তুলে না দেন। তেমনটা হলে ভারতের ঐক্য অটুট থাকবে না এবং বাংলা বাকি ভারতের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই প্রদেশ কংগ্রেসের এক্সিকিউটিভ কমিটি দাবি জানাচ্ছেন যে যত দিন না কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ক্ষমতার হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে তত দিন বাংলার পূর্ব আর পশ্চিম দুটি পৃথক অংশের জন্যে অবিলম্বে দুটি আলাদা সরকার গঠন করা হোক।

শনিবার, ৫ এপ্রিল হিন্দু মহাসভার বিশেষ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে তারকেশ্বরে উপস্থিত ছিলেন লক্ষাধিক মানুষ। সেদিন সেখানে বক্তব্য রাখেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, আজাদ হিন্দ বাহিনীর প্রাক্তন মেজর জেনারেল এ সি চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। বাংলায় পৃথক হিন্দু রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা সেখানে ব্যাখ্যা করেন শ্যামা প্রসাদ। সভায় সর্বসম্মতভাবে পাশ হয় বাংলায় হিন্দুদের জন্যে পৃথক হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গেই তার ভারতভুক্তির প্রস্তাব। সেই কয়েকদিনে হিন্দু হোমল্যান্ড সৃষ্টির দাবিতে কংগ্রেস আর হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে গোটা বাংলা জুড়ে ৭৬টি জনসভা হয় যার মধ্যে ৫টি ছিল দুই দলের যৌথ উদ্যোগে।

১৫ মার্চ ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ড. মাখনলাল রায়চৌধুরী, পণ্ডিত রামশঙ্কর ত্রিপাঠী প্রমুখের উপস্থিতিতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী হিন্দু হোমল্যান্ডের প্রয়োজনীতা ব্যাখ্যা করেন। ওই সভাতেই ড. মুখার্জীর বক্তব্যের সর্মথনে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্য পেশ করেন। কলকাতা হাই কোর্টের ৫০ জন জুরি একত্রে এক লিখিত বিবৃতিতে মন্তব্য করেন পৃথক হিন্দু হোমল্যান্ড সৃষ্টি না হলে বাংলার হিন্দুসমাজ এক প্রভুর দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে অন্য এক প্রভুর দাসত্বের কবলে আবদ্ধ হবে। ১ এপ্রিল কনষ্টিটুয়েন্ট এসেম্বলিতে বাংলার ১১ জন প্রতিনিধি পৃথক হিন্দু হোমল্যান্ডের সমর্থনে ভাইসরয় মাউন্ট ব্যাটেন কে এক স্মারকলিপি পেশ করেন। ৩০ এপ্রিল কলকাতায় চেম্বার অফ কমার্সের এক সভায় ঘনশ্যাম দাস বিড়লা হিন্দু হোমল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন করে বাংলার বিভাজনকে অনিবার্য আখ্যা দেন। ৭ মে-র এক সভায় ড. মেঘনাদ সাহা, ড. যদুনাথ সরকার, ড. রমেশ চন্দ্র মজুমদার, ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতন কৃতি বাঙালী মানুষজন বাংলার হিন্দুসমাজের সুরক্ষার স্বার্থে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর হিন্দু হোমল্যান্ডের দাবি সর্বান্তকরণে সমর্থন করেন। অমৃতবাজার পত্রিকা-র তরফে ‘বেঙ্গল পার্টিশন ফান্ড’ গঠন করা হয়।

বাংলায় পৃথক হিন্দু হোমল্যান্ডের বিষয়ে সমাজের মনোভাব হাতে কলমে যাচাই করতে ২৩ মার্চ থেকে অমৃতবাজার পত্রিকা তাদের পাঠকদের মধ্যে এক সমীক্ষা শুরু করেছিল। কোন রাখঢাক না করে পত্রিকার পাতায় পাঠকদের সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল—Do you want a separate homeland for Bengal Hindus? সেই সঙ্গে পাঠকদের বলা হয়েছিল চিঠি লিখে সেই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তাদের মতামত জানাতে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল প্রতি দু-তিন দিন অন্তর পত্রিকার পাতায় সমীক্ষার প্রশ্নটি ছাপানো হবে। শুরুতে পাঠকদের উত্তর তথা মতামত গ্রহণ করার শেষ দিন ঠিক হয়েছিল ৭ই এপ্রিল। কিন্তু চতুর্দিকে গন্ডগোলের আবহে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল না বলে পাঠকদের অনুরোধে আরো কয়েকদিন বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল সমীক্ষার উত্তর গ্রহণ করার শেষ দিন বলে জানানো করা হয়।

অমৃতবাজার পত্রিকার পরিসংখ্যান বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে কলকাতার অফিসের অন্যান্য বিভাগের কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মী কঠিন পরিশ্রম করে পাঠকদের পাঠানো প্রতিটি চিঠি যাচাই করে সমীক্ষার ফলাফল বের করলেন। সমীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অমৃতবাজার পত্রিকার আগ্রহে সমীক্ষার সেই ফলাফল প্রত্যয়িত করার দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সুরেন্দ্র মোহন ঘোষ এবং সেই সময়ের বিখ্যাত অডিট ফার্ম ‘মেসার্স গুপ্ত অ্যান্ড মিত্র’। ২৪ এপ্রিল অমৃতবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় সেই সমীক্ষার প্রত্যয়িত ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা গেলো—১৫ এপ্রিল পর্যন্ত্য ৫,৩৪,২৪৯ জন পাঠক তাদের মতামত জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫,২৫,১৭০ জন অর্থাৎ সমীক্ষাতে অংশগ্রহণ করা মোট পাঠকদের ৯৮.৩% জানিয়েছেন যে তারা বাংলার হিন্দুদের জন্যে পৃথক হোমল্যান্ডের দাবি সমর্থ করেন। ০.৬% অর্থাৎ ৩,২০৫ জন জানিয়েছেন তারা বাংলার হিন্দুদের জন্যে পৃথক হোমল্যান্ডের বিরুদ্ধে। আর ৫,৮৭৪ জন পাঠকের উত্তর বিভিন্ন প্রায়োগিক ভুলভ্রান্তির কারণে বাতিল করা হয়েছে। এভাবেই অমৃতবাজার পত্রিকার উদ্যোগে বাংলার বৃহত্তর সমাজের মতামতের একটা চিত্র পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল সেদিন।

বাংলার ভবিষ্যৎ ঠিক করতে অবিভক্ত বাংলার অ্যাসেম্বলীর অধিবেশন বসেছিল ১৯৪৭-এর ২০ জুন। ১৯৪০ থেকেই মুসলিম লীগের পাকিস্তান দাবির অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছিল শহর কলকাতা সমেত পূর্ব থেকে পশ্চিমের সবটা নিয়ে গোটা বাংলা। তার উপর গোটা প্রদেশে মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অন্ততঃ খাতায় কলমে তো বটেই। তার সঙ্গে অবিভক্ত বাংলার অ্যাসেম্বলীতেও মুসলিম লীগের সঙ্গে তখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর। তাই স্বাভাবিক কারণে তাদেরই সরকার। আর তা সত্ত্বেও বাংলার অ্যাসেম্বলীতে ঘটে যাওয়া সেদিনের ঘটনার খবর জানিয়ে পরের দিন অমৃতবাজার পত্রিকায় প্রথম পাতা জোড়া শিরোনাম হলো—PARTITION OF BENGAL NOW A SETTLED FACT—MOMENTOUS TURN OF EVENTS—CIRCUMSTANCES FORCE HINDUS TO AGREE TO UNDREAMT OF VIVISECTION—DECISION TAKEN IN PURSUANCE OF JUNE 3 PLAN—Separated Province of Non-Muslim Areas To Join Indian Union—অমৃতবাজার পত্রিকা সেদিন জানিয়েছিল—ব্রিটিশ সরকারের ৩ জুনের সনদ অনুসারে অ্যাসেম্বলীতে বাংলার অমুসলমান এলাকার অর্থাৎ পশ্চিম দিকের জেলাগুলির সদস্যরা ৫৮-২১ ভোট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলার অমুসলমান এলাকাগুলি অর্থাৎ পশ্চিম দিকের জেলাগুলি পৃথক পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ হয়ে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

যদিও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলির সদস্যরা ১০৬-৩৫ ভোটে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। সঙ্গে তারা ১০৭-৩৪ ভোটে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলি অর্থাৎ পূর্ব দিকের জেলাগুলি নতুন কনষ্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলীতে অর্থাৎ পাকিস্তানে যোগ দেবেন। পার্টিশন প্রস্তাব পাশ হওয়ার পরে মুসলমান প্রধান এলাকার সদস্যরা সিলেট রেফারেন্ডামকে মান্যতা দিয়ে ১০৫-৩৪ ভোটে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের নতুন প্রদেশ ইস্ট বেঙ্গল-এ অন্তর্ভুক্ত হবে সিলেট। এভাবেই সেদিন সিল মোহর পড়েছিল বাঙ্গালার হিন্দুদের হোমল্যান্ড দেওয়ার জন্যে আলাদা এক প্রদেশের সৃষ্টিতে যার নাম—‘পশ্চিমবঙ্গ’।

সেদিন অমৃতবাজার পত্রিকাতে আরো দুটো তাৎপর্যপূর্ণ খবর ছাপা হয়েছিল প্রথম পাতায়। যার একটার শিরোনাম ছিল—SUHRAWARDY WAILS OVER LOST DREAM—Still Welcome Truncated Pakistan. আর অন্যটার—DISSOLUTION OF BENGAL MINISTRY DEMANDED—Dr. Mookherjee Urges Immediate Safeguard Of Hindus. সেদিন অমৃতবাজার পত্রিকা-র ৮ নং পাতায় একটা মানচিত্র ছাপিয়ে আলাদা করে চিহ্নিত করে দেখানো হয়েছিল বাংলার কোন কোন এলাকা পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ভারতের অঙ্গ হবে আর কোন কোন এলাকা পূর্ববঙ্গের তথা পাকিস্তানের। যাতে সিলমোহর দেবেন বাউন্ডারী কমিশন।

জুন মাসে সেই মানচিত্রে দেখানো হয়েছিল খুলনা জেলার ভারতভুক্তি হবে। এমনকি ২০ জুন খুলনার হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সদস্যরাই অমুসলমান প্রধান এলাকার সদস্য হিসেবেই অ্যাসেম্বলীর ভোটভুটিতে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় ১৭ অগাস্ট র‍্যাডক্লিফ সাহেবের বাউন্ডারী কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ হতে জানা গেল শুধু পশ্চিম ভাগেরই নয় এমনকি হিন্দুসংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও ভারতের নয় পাকিস্তানের অঙ্গ হয়েছে খুলনা।

— নিবন্ধটি "নির্ঝর" প্রকাশনা সংস্থার "জাতীয় জাগরণ ও অমৃতবাজার পত্রিকা" শীর্ষক প্রবন্ধ সমগ্রে প্রকাশিত হয়েছিল।