পশ্চিমবঙ্গ দিবস

অনুপম কুণ্ডু

আচ্ছা রসগোল্লা কাদের – বাঙ্গালার না উড়িষ্যার? কিছুদিন আগেই এই নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিলো। ফলাফল কী হয়েছিলো জানেন? আমরা বেশীরভাগ সাধারণ মানুষ খোঁজখবর রাখিনি হয়তো। ব্যাপারটা ড্র হয়েছিলো, উড়িষ্যা তার আলাদা জি আই ট্যাগ পেয়েছিল। এখন রসগোল্লা বাঙ্গালীর সাথে সমার্থক, বরং এই স্টিরিওটাইপের জন্য অনেক বাঙ্গালী বাকি ভারতে কাজ করতে গিয়ে বিরক্ত হয়ে যান, অথচ এই সাধারন পরিচয়টুকু ধরে রাখতে পারলাম না। একইরকম আরেকটা ঘটনা হলো জয়দেবের জন্মস্থান, উড়িষ্যার দাবি তিনি ওই রাজ্যের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গ দিবস এরকমই আমাদের একটা পরিচয়। ঘটি-বাঙ্গাল নিয়ে আমরা যুদ্ধ করি, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল নিয়ে যুদ্ধ করি, কিন্তু ২০ শে জুন “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” দিব্যি ভুলে যাই। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সব থেকে বেশী লড়াই যদি কাউকে করতে হয়, সেটা হয়তো বাঙ্গালী জাতিকে করতে হয়েছিলো। কাজেই বাঙ্গালী হিন্দুর হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিনটাকে ভুলে যাওয়া এবং একই বৃন্তে দুটি কুসুম মার্কা অশ্বডিম্ব নিয়ে চর্চা করা আত্মবিস্মৃতিরই নামান্তর।

বাঙ্গালার নবজাগরণের কান্ডারীরা কিন্তু আজকের ‘(দুঃ)বুদ্ধিজীবি’দের মত আত্মবিস্মৃত ছিলেন না। রাজা রামমোহন রায় তার ‘তৌফিত উল মুয়াহিদিন’ গ্রন্থে বাঙ্গালির উপর আরব সাম্রাজ্যবাদীদের অত্যাচার নিয়ে নিশ্চুপ ছিলেন না। আমাদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকারের যে স্খলন ঘটেছিলো নারীলোলুপ আরব শাসনে, তা রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর “বাঙ্গালার ইতিহাস” বইতে লিখে গিয়েছেন। আর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের কথা আর নতুন করে কী বলবো? স্বামী বিবেকানন্দের ‘লেকচারস ফ্রম কলোম্বো’ বইতে “হিন্দু ধর্মের সাধারণ ভিত্তি”তেও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। সাহিত্য সমসাময়িক সমাজকে প্রভাবিত করে আবার নিজেও অনুপ্রেরণা গ্রহন করে। সেদিক থেকে দেখলে আমরা সহজেই বুঝতে পারি বাঙ্গালীর এই বিদ্বান ব্যাক্তিদের বক্তব্য। কিন্তু আমরা কি বুঝতে চাই?

বঙ্গভঙ্গ রোধের সময় থেকেই ব্রিটিশ শাসনযন্ত্রের চক্ষুশূল হয়ে পড়েছিলো বাঙ্গালী নেতৃত্ব। ১৭ ফেব্রুয়ারী, ১৯০৪ সালে লর্ড কার্জন, ভারতবর্ষের তৎকালীন ভাইসরয়, একটি চিঠি লেখেন তত্কালীন সেক্রেটারি অফ স্টেট (ভারত) উইলিয়াম সেন্ট জন ফ্রিম্যানটেল ব্রডরিককে, “The Bengali is who like it themselves as a nation and who dream of a future when the English will be turned out and a Bengali Babu will be installed in the Government House, Calcutta, of course, bitterly resent any interfere that will be likely to interfere with the realization of this dream. If we are weak enough to yield to their clamour now, we shall not be able to dismember or deduce Bengal again; and you will be cementing and solidifying on the Eastern flank of India, a force already formidable and certain to be a source of increasing trouble in the future.”– ‘Genesis of Pakistan’ – Nagarkar

১৯১৯ সালের জালিয়ানয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের পরে ১৯২১ সালের মালাবারের মোপলা হিন্দুহত্যাকান্ডকে যতই একটি ‘সেকুলার’ স্বাধীনতা আন্দোলন বলে চালানোর চেষ্টা করা হোক না কেনো, অ্যানি বেসান্ত বলে গিয়েছেন “আমরা দেখে নিলাম যে ইসলামী শাসন বলতে কী বোঝায় এবং আমরা আরেকটা খিলাফত রাজ দেখতে চাই না।” (‘The Future of Indian Politics: A Contribution to the Understanding of the Present Day Problems’, P-252, Kessinger Publishing LLC) বিশ্বকবি কালিদাস নাগকে লেখা চিঠিতে বলেছিলেন, “দুটি ধর্ম যাদের বাকি সকলের সাথে শত্রুতা রয়েছে, তারা নিজেদের ধর্ম প্রচার করেই শান্ত থাকে না, বরং বাকিদের সংহার করতেও উদ্যত হয়”। এদিকে মুসলীম লীগ বাংলার ক্ষমতা দখল করতে সচেষ্ট হলেও ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ বাংলার কসাই সোহরাবর্দী, তার শ্বশুর আব্দুর রহিম এবং জামাত-ই-উলেমাই বাংলার প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা মনিরুজ্জামানদের সাথে ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামক সমঝোতাতে আসেন, যেখানে আইনসভাতে সংখ্যাভিত্তিক সংরক্ষণ, সরকারী চাকরিতে ৮০ শতাংশ সংরক্ষণ, মসজিদের সামনে হিন্দু শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং গো জবাইয়ের যথেচ্ছ অধিকারের পক্ষে কথা বলা হয়। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, বিপ্লবী শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী, বাংলা গণমাধ্যম – সবাই এই প্যাক্টের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। বিপিনচন্দ্র পাল তার “ন্যাশনালিটি ও এম্পায়ার” গ্রন্থে লিখে গিয়েছেন, “আগামীদিনে ভারতের সমস্যা হলো Pan-Islamism এবং Pan Mongolianism।” ১৯২৬ সালে এপ্রিলে কলকাতা, জুলাইয়ে পাবনা এবং সেপ্টেম্বরে ঢাকা দাঙ্গা প্রমাণ করে দেয় তাঁর বক্তব্যের যৌক্তিকতা। শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের লেখা ‘গফুর’ পড়িয়ে আমাদের সামনে যে ছবি তৈরি করে রাখা হয়, তা আসলে একটি মিথ্যা। কথাশিল্পী এই হিন্দু-মুসলমান ঐক্যকে শুধু একটা গালভরা শব্দ বই আর কিছু মনে করতেন না।

১৯৩০ সালে মহম্মদ ইকবাল, চৌধুরি রহমত আলিরা একটি পৃথক মুসলিম স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের দাবি তোলেন। ১৯৩২ সালে ‘Communal Award’-এর মাধ্যমে হিন্দুদের জাতপাতের ভিত্তিতে আলাদা আসন সংরক্ষণ করে হিন্দুদের দুর্বল করে দেওয়া হলো। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ শ্রী নীরোদচন্দ্র চৌধুরী পর্যন্ত স্বীকার করলেন, “হিন্দুদের দেখার কিছু থাকলো, বলার কিছু থাকলো, কিন্তু করার কিছুই থাকলো ন”, অর্থাৎ ১৯৩৫-৩৬ সালের মধ্যেই অবিভক্ত বঙ্গের একদা প্ৰচণ্ড শক্তিশালী বাঙ্গালী হিন্দু, কি শিক্ষা, কি অর্থনীতিতে, পথের কপর্দকহীন ভিক্ষুকে পরিণত হল প্রায়। ব্রিটিশদের কাছ থেকে এভাবেই মুসলীম লীগ নিজেদের জনসংখ্যার অনুপাতের থেকেও বেশী আসন বিভিন্ন প্রাদেশিক আইনসভাগুলোতে পেতে শুরু করলো।

২৫০ টি আসনের মধ্যে ১১৯ টি আসন মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণ করার পরেও ১৯৩৭ সালে কোনো মুসলিম দলই বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আজকের যুগে দাঁড়ালে হয়ত এটা ভোট কাটাকাটি বলে গণ্য হতো। এরই মধ্যে ১৯৩৯ সালে খুলনাতে বীর সাভারকরের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্যামাপ্রসাদ যোগ দিলেন হিন্দু মহাসভাতে। ১৯৪০ সালে প্রণবানন্দজী মহারাজ ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সূচনা করেন। এরই মধ্যে জাতীয় কংগ্রেসের আভ্যন্তরীণ বিবাদ ও সিদ্ধান্তহীনতায় কৃষক প্রজা পার্টি আর মুসলীম লিগ জোট সরকার গঠন করে ফেললো। কৃষক প্রজাপার্টির নেতা ফজলুল হক প্রধানমন্ত্রী হলেন, শুরু হলো হিন্দুহত্যা। ওই একই সালে প্রবর্তিত ‘Secondary Education Bill’ নামক একটি তীব্র সাম্প্রদায়িক বিলের বিরূদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন কবিগুরু, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তারপরেও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো থেকে ‘শ্রী’ শব্দটি সরানো হয় পৌত্তলিকতার অভিযোগে, আরবী এবং ফারসি শব্দের অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করা হয়। মিল পাচ্ছেন আজকের রামধনু কে রংধনু বানানোর সাথে, আজকের বাঙ্গালা ভাষার আরবীকরণের সাথে? বা আজকের তেহট্টে সরস্বতী পুজো বন্ধের সাথে? বা আজকের কলকাতার রাস্তায় উর্দু সাইন বোর্ডের ব্যবহারের সাথে? মনে রাখবেন, এটাই হয়েছিলো আমাদের সাথে। ইতিহাস বারবার সুযোগ নাও দিতে পারে।

১৯৪১ সালে দোলযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকাতে এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে হত্যা লুন্ঠন-খুন-ধর্ষণ-ধর্মান্তরকরণ চরম আকার ধারণ করে। কথিত আছে, মৌলবিরা পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে সধবা হিন্দু নারীর সিঁথির সিঁদুর মুছে দিতো, গোমাংস মুখে দিতো কলেমা পড়ে। ১৯৪৩ সালে জাপানী আক্রমণে ভীত ব্রিটিশ বর্বর রচিত বাংলার দুর্ভিক্ষের সময়েও খাক্সার বাহিনী এবং আরও কিছু সংগঠন সমাজসেবার আড়ালে খ্রীষ্টান মিশনারীদের মতই বাংলার হিন্দু নারী শিশু পাচার, ধর্মান্তরকরণে লিপ্ত হয়। কমিউনিস্ট হিন্দুবিদ্বেষীরাও পাকিস্তানের দাবিকে সমর্থন করেন এবং বলেন যে, “পাকিস্তানের দাবি মানতে হবে, তবেই ভারত স্বাধীন হবে”। এখানে কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যূরোর সদস্য গঙ্গাধর অধীকারীর লেখা থিসিসটি উল্লেখযোগ্য। ১৯৪৬ সালে আসতে-আসতে কৃষক প্রজা পার্টির নেতারা ধীরে-ধীরে মুসলীম লীগে যোগদান করেন এবং ওই সালে বাংলার ১১৯ টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৮২ শতাংশ মুসলিম ভোট পেয়ে ১১২ টি আসনেই মুসলিম লীগ জয়লাভ করে। বাংলার কসাই সোহরাওয়ার্দী বিহার থেকে মুসলিমদের নিয়ে এসে কলকাতাতে বসাতে থাকেন, হিন্দুদের উপর খুন-জখম-লুঠপাঠ চলতেই থাকে। গান্ধীবাদী ভুদেব সেন, শচীন্দ্র মিত্র, উদয়শঙ্করের নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজক ভারতের প্রথম ইম্প্রেসরিও হরেন ঘোষকেও হত্যা করা হয় তাঁর নিজের অফিসে। ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট জিন্নার ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’-এর ডাকে শুরু হয় কলকাতা ও নোয়াখালীর গণহত্যা। প্রায় ৫০,০০০ মুসলিম জনতা জড়ো হলো ভোজালী, দা এই সব নিয়ে। হোসেন সোহরাবর্দী, খাজা নাসিমুদ্দিন, এম এস ইস্পাহানী, যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ছিলেন এই সভামঞ্চে। বাঙ্গালার কসাই বক্তব্য রাখলেন, “সেনা ও পুলিশকে সংযত করা হয়েছে, ২৪ ঘন্টা সময় দিলাম, যা পারিস কর।” অক্টোবর ১০, ১৯৪৬ – কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার রাত্রে গোলাম সারওয়ারের নেতৃত্বে নোয়াখালীর সংখ্যালঘু হিন্দুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল কাশেমের ফৌজ, যে অগ্নি নির্বাপিত করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতে স্বয়ং গান্ধীজিকে ছুটে আসতে হয়েছিল সেখানে এবং নোয়াখালীর প্রতিক্রিয়ায় অক্টোবর ২৬-এ বিহারে হিন্দুরা ঝাঁপিয়ে পড়ল সেখানকার মুসলমান অধিবাসীদের উপর। তারপরই জ্বলে উঠল উত্তরপ্রদেশের গড়মুক্তেশ্বর।

বাবাসাহেব আম্বেদকর তার ‘পাকিস্তান অর পার্টিশন অফ ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে লিখেছেন যে ইস্লামিক শাসনে সব বর্ণের হিন্দুরই ভবিষ্যত অন্ধকার। ১৯৪৬ সালের শেষে বিপ্লবী উপেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, কৃষক নেতা হেমন্ত কুমার সরকার এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী গঠন করলেন “বেঙ্গল পার্টিশন লীগ”। ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং ঐতিহাসিক রমেশ্চন্দ্র মজুমদার এবং বাংলার জমিদারবৃন্দ এই উদ্যোগকে সমর্থন করেন। ৪ ঠা এপ্রিল বঙ্গীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে ডঃ বিধান চন্দ্র রায়, ডঃ প্রমথনাথ ব্যানার্জী, কুমার দেবেন্দ্রলাল খান সহ সকলেই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর বক্তব্যকে সমর্থন করলেন। ২৩ শে এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদের ডাকে পরিবহন ধর্মঘটে পার্টিকে তোয়াক্কা না করে কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রিত ট্রাম কর্পোরেশনের শ্রমিকরাও যোগদান করেন। মতুয়া মহাসঙ্ঘের নেতা প্রমথরঞ্জন ঠাকুর পশ্চিমবঙ্গের গঠনের পক্ষে মতামত রাখেন। বাংলার কসাই সোহরাবর্দী, ফজলুল কাদের চৌধুরীরা যখন দেখলেন সারা বাঙ্গালা আর একসাথে রাখা যাচ্ছে না, তখন তারা অখন্ড বাঙ্গালা জাতির ধুয়ো তুললেন। আজকের শাসক দলের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে মিল খুঁজে দেখতে পারেন, প্রচুর উদাহরণ আছে, কাজেই নিরাশ হতে হবে না।

৩রা জুন মাউন্টব্যাটেনের ভারতভাগের ঘোষণার পর পাকিস্তানের প্রশ্নে বাংলার প্রাদেশিক আইনসভাতে ১২৬-৯০ ভোটে জয়ী হন পাকিস্তানপন্থীরা। বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার পশ্চিমাংশের বিধায়করা ৫৮-২১ ভোটে পাকিস্তানের বিরূদ্ধে মত দেন। ৩ রা জুলাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ। জনবিনিময়ের দাবি জানালেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, তাকে সমর্থন করলেন বাবাসাহেব। কিন্তু নেহেরু তা মানলেন না, ফলাফল হলো ১৯৪৯ সাল থেকে লাগামছাড়া অত্যাচার এবং ১৯৫০ সাল থেকে গণহত্যা।

এই দীর্ঘ রক্তাক্ত ইতিহাস দেখার পর অবাক হতে হয় আজকের বাঙ্গালী জাতিকে দেখে। এই অত্যাচার, এই দুর্ভোগের পরেও আজকে সেই অশ্বডিম্ব ঐক্যচর্চা কী’করে করে যাচ্ছি আমরা? কমিউনিস্টদের বৌদ্ধিক দীনতা এবং অসততা আমাদের রাজ্যকে গ্রাস করছে। এই সর্বংসহা জাতি, যারা স্বাধীনতার সময়েও এতো অত্যাচার সহ্য করেও ভারতের উন্নততম রাজ্যগুলোর একটা ছিলো, আজকে শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব দিক থেকে ভারতের পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে। বৌদ্ধিক চর্চার জন্য এবং সাধারণ জীবন-জীবিকার জন্য আজকে রাজ্য ছাড়ার বিকল্প নেই কারোর। এই শেষ সময় ইতিহাসের ভুলের থেকে শিক্ষা না নিলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ২০ শে জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আমাদের শপথ গ্রহণ করা উচিত, যাতে আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সৎ ভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারি। আমাদের যুক্তিবাদী দর্শন এবং ক্ষাত্রতেজে বলীয়ান না’হলে উপায় নেই, ঠাকুরের ভাষায় ফোঁস করতে এখন না শিখলে আর কবে?

— নিবন্ধটি সানডে টাইমস কলকাতা পোর্টালে প্রথম প্রকাশিত হয়।